আমার প্রথম বিসিএস প্রিলি অভিজ্ঞতা

২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে বিসিএস প্রস্তুতি শুরু করি। প্রথম বিসিএস হিসেবে পাই ৩৫তম বিসিএস। নতুন সিলেবাস তৈরির জন্য সার্কুলার আসতে আসতে বেশ সময় পেয়েছিলাম। টিউশন, প্রাইভেট জব স্কিপ করে সারা দিনরাত পড়াশোনা করেছিলাম।

তাই আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। ৩৫তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার তারিখ ছিল ৬ মার্চ ২০১৫। পরীক্ষার পূর্বের এক সপ্তাহ খুব সতর্ক থাকার পরও পরীক্ষার আগের রাতে একটু অসুস্থ হয়ে গেলাম, রাতে কিছুক্ষণ পরপর ঘুম ভেঙে গেল।

পরীক্ষার দিন বাড্ডা থেকে পরীক্ষাকেন্দ্র তেজগাঁও কলেজে যে লোকাল বাসে যাচ্ছিলাম, সে বাস ভর্তি শুধু পরীক্ষার্থী আর তাদের অভিভাবক। কিন্তু কেন যেন আমার মনে হচ্ছিল, তারা পরীক্ষায় জাস্ট অ্যাটেন্ড করতে যাচ্ছে, আমার মতো প্রিপারেশন তাদের নেই (রিয়েল প্রার্থীদের এই আত্মবিশ্বাসটা থাকা প্রয়োজন)। ৩৫তম বিসিএস প্রশ্ন ছিল পূর্বের প্রিলি থেকে পুরোই ভিন্ন ধাঁচের এবং এখন পর্যন্ত সবচেয়ে কঠিন প্রশ্ন।

পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়ার পর প্রশ্নোত্তর করতে গিয়ে দেখি, প্রায় সবই অপরিচিত প্রশ্ন। বারবার পরীক্ষা হল থেকে বের হয়ে যেতে ইচ্ছে হচ্ছিল। পরীক্ষার আগের ১৫ মাসের অমানুষিক পরিশ্রমের কথাই বারবার মনে হচ্ছিল। প্রথম দফায় ১০০টা প্রশ্ন দাগিয়েছিলাম। প্রথম ২০০ নম্বরের প্রিলি হওয়ায় মনে ভয় ঢুকে গেছিল যে ৭০-৮০% নম্বর লাগবে, তাই সিক্সথ সেন্স দিয়ে আরো প্রশ্ন দাগানো শুরু করলাম। শেষে প্রশ্নোত্তর ১৬০টাতে গিয়ে ঠেকল, এর পরেরগুলো আমার পক্ষে সিক্সথ সেন্স দিয়েও দাগানো সম্ভব ছিল না। এত পড়েও প্রিলি ফেল করতে যাচ্ছি ভেবে মন ভীষণ খারাপ হলো।

পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে রাস্তায় নেমে আশপাশে কথা বলে বুঝলাম, প্রশ্ন বিদখুটে ছিল, সবারই পরীক্ষা খারাপ হয়েছে। শেষে বিভিন্ন কোচিং ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রশ্ন সমাধান মিলিয়ে দেখলাম কাটাকাটি করে ১০৫-এর মতো পেয়েছি (নিশ্চিত মনে করে প্রথমবার দাগানো থেকেও অনেকগুলো ভুল হয়েছিল, সিক্সথ সেন্সে পরেরবার দাগানোগুলো থেকেও অনেকগুলো শুদ্ধও হয়েছিল)। সেবার কাট মার্কস সম্ভবত ৮৫+/- ছিল, সেই অর্থে অনেকটা নিরাপদ নম্বর পেয়েই প্রিলি টিকেছিলাম।

নবীন পরীক্ষার্থীদের জন্য পরামর্শ হলো―শুধু প্রস্তুতি নয়, পরীক্ষা হলের ইনস্ট্যান্ট সিদ্ধান্তও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক : রবিউল আলম লুইপা, ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)