টাকার বিনিময়ে মিলছে সনদ

টাকা দিলে মিলছে জন্মনিবন্ধন, ট্রেডলাইসেন্স বা শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ। বিদেশে কাজে যেতে লাগে এমন যেকোনো সনদ মুহূর্তে তৈরি করে দিতে পারে চক্রটি। রাজধানীতে খিলক্ষেতে কম্পিউটার কম্পোজের আড়ালে চলছে এই কাণ্ড। এ পর্যন্ত হাজারখানেক ভুয়া সার্টিফিকেট দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ।

খিলক্ষেতের এসব দোকান চলছে কম্পিউটার কম্পোজের নামে। তবে তারা হুবহু তৈরি করে দিতে পারেন যেকোনো ধরনের সার্টিফিকেট।

কেউ কোনো সার্টিফিকেট স্ক্যান করালে, সেটির সফ্ট কপি তারা জমিয়ে রাখে। পরে সেটির সিরিয়াল নম্বর ঠিক রেখে, নাম-ঠিকানাসহ অন্যান্য তথ্য বসিয়ে বানিয়ে দেয় ভুয়া সার্টিফিকেট। এভাবে একটির ক্রমিক নম্বর দিয়ে বানানো হয়েছে এসএসসির ১৪টি সনদ।

বিদেশগামীদের প্রয়োজন হয় এমন যেকোনো সার্টিফিকেট মাত্র চার থেকে পাঁচ হাজার টাকার বিনিময়ে তৈরি করে দেয় এই সংঘবদ্ধ চক্রটি। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের এসবের সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ কম বলে, তারা ছিলো এতদিন নাগালের বাইরে।

চক্রটির প্রধান সালাহউদ্দিন সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হলেও, এক মাসের কারাবাস শেষে বেরিয়ে আসেন জামিনে।

গ্রেপ্তারের সময় সালাহউদ্দিনের কাছ থেকে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পাশের ১৭টি সনদপত্র, ভুয়া ট্রেড লাইসেন্স, জন্ম-সনদ, ১৫টি জাতীয় পরিচয়পত্র ও চাকরির যোগদানপত্র এবং দুটি কম্পিউটার হার্ডডিস্ক জব্দ করা হয়।

তবে এক মাসের কারাবাস শেষে আবারো তিনি ফেরেন আগের কাজে। নতুন পিসিতেও আবারো পাওয়া যায় গ্রাহকের এনআইডি থেকে শুরু করে নানা ধরনের সংগৃহীত সার্টিফিকেট।

সে কারণেই কোনো দোকানে গুরুত্বর্পূণ নথিপত্র স্ক্যান করলে তা নিজ দায়িত্বে মুছে দেয়ার পরার্মশ দিচ্ছে পুলিশ।