নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ভুয়া কি না, চিনবেন যেভাবে

লোভনীয় চাকরির বিজ্ঞাপন দেখে হরহামেশাই প্রতারণার ফাঁদে পড়ছেন অসতর্ক চাকরিপ্রার্থীরা। ‌‘দ্রুত একটি চাকরি পেলেই হয়’- এমন অবস্থায় কোন কিছু হিসাব নিকাশ না করেই জমা দেন মোটা অংকের জামানত। পরে চাকরি তো হয়ই না, উল্টো খোয়া যায় টাকা পয়সা। তবে একটু খোঁজ খবর নিলে এমন প্রতারকদের এড়ানো সম্ভব।

সাম্প্রতিক সময়ের একটি ঘটনা শেয়ার করি। কয়েক মাস আগে একটি সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা বড়সড় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে সরকারি নিয়োগের কথা উল্লেখ করা হলেও কোন দপ্তরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। ফলে অনেকেই বিজ্ঞপ্তিটি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যায়। যদিও এই বিজ্ঞপ্তিটি সঠিক বিজ্ঞপ্তিই ছিল। সঙ্গত কারণেই গোপনীয়তার জন্য সেখানে দপ্তরের নাম উল্লেখ করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিটি সঠিক হওয়ার একটি বড় প্রমাণ হচ্ছে-তারা অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়ায় টেলিটকের পোর্টাল ব্যবহার করেছিল। সাধারণত সরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাই এই পোর্টালটি ব্যবহার করতে পারে।

অপরদিকে ভুয়া নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানগুলো জামানত দাবি করে, এ রকম কিন্তু বেসরকারি নামি প্রতিষ্ঠানগুলোও (যেমন : এনজিও) যৌক্তিক কারণে ফেরতযোগ্য জামানত নেয়। জামানতের প্রসঙ্গ এলে প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে যাচাই করতে হবে। যদি নামি প্রতিষ্ঠানের নামেও কোনও যৌক্তিক দাবি বা শর্তারোপও করা হয়, খোঁজ নিতে হবে সেটা আদৌ তাদের দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার অংশ কি না

নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠানের নামে যেমন ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে, আবার পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামেও ভুয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে। পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নামে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারকরা একই রকমের মনোগ্রাম বা নাম ব্যবহার করে ঠিকই, তবে সেখানে নিজেদের ই-মেইল ঠিকানা জুড়ে দেয়, যাতে প্রার্থীরা সেখানে সিভি পাঠায় বা যোগাযোগ করে। সিভি পাঠানোর পরই তারা প্রার্থীদের হাল-অবস্থা দেখে ঠিক করে কাকে ফাঁদে ফেলবে। 

যাচাই করুন সহজেই

বেশিরভাগ সরকারি নিয়োগের আবেদন প্রক্রিয়া অনলাইনেই হয়। সামাজিক মাধ্যমে অনেক সময় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। পুরনো আসল বিজ্ঞপ্তি ফটোশপে সম্পাদনা করে কিছু তথ্য পরিবর্তন করে ছড়িয়ে দেয় প্রতারকরা। দেখতে অনেকটা আসল বিজ্ঞপ্তির মতো হওয়ায় সাধারণ প্রার্থীরা এসব দেখে বিভ্রান্ত হন। তাহলে চলুন এক নজরে জেনে নেই, কিভাবে ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি চিহ্নিত করবেন-

১। সরকারি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি সঠিক কি না, এটি যাচাই করতে প্রথমেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে (.gov.bd যুক্ত) গিয়ে দেখবেন এ রকম কিছু আছে কি না। 

২। আবেদনের সাইট হিসেবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের অফিশিয়াল সাইট বা ওই দপ্তরের সংক্ষিপ্ত নামের শেষে টেলিটকের চাকরিসংক্রান্ত পোর্টালের শেষাংশ (.teletalk.com.bd) থাকবে। যেমন : http://ntrca.teletalk.com.bd, http://gtcl.teletalk.com.bd, http://bsec.teletalk.com.bd ইত্যাদি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ও আবেদন প্রক্রিয়া হয় https://erecruitment.bb.org.bd সাইটে। 

৩। বেসরকারি ব্যাংক ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো পত্রিকার পাশাপাশি তাদের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটেও নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তারা সাধারণত নিজস্ব ওয়েবসাইট কিংবা bdjobs.com এর মাধ্যমে আবেদন জমা নেয়। আবার কেউ কেউ ই-মেইল বা নিজস্ব ঠিকানায় আবেদন পাঠানোর আহ্বান করে। গুগলের সুবিধা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির ঠিকানা যাচাই করা কঠিন কিছু না। 

৪। অনেক সময় কোনও নামি প্রতিষ্ঠানের হুবহু নামে কিংবা নামের সঙ্গে কোনও শব্দ জুড়ে বা পরিবর্তন করে বিজ্ঞপ্তি ছাপা হতে পারে। কোনও প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের নামের সঙ্গে মিল রেখেও নকল ওয়েবসাইট বানিয়ে প্রতারণা হতে পারে। এ নিয়ে সন্দেহ থাকলে who.is সাইটে গিয়ে দেখে নিন সাইটের ঠিকানা বা ডোমেইনটি নতুন কি না। 

৫। চলমান চাকরির বিজ্ঞপ্তিগুলো একসঙ্গে পাওয়া যাবে টেলিটকের চাকরিসংক্রান্ত পোর্টালে : alljobs.teletalk.com.bd। তা ছাড়া সরকারি চাকরির আবেদনের ফি নির্দিষ্ট কোডে এসএমএস পাঠিয়ে বা নির্ধারিত নিয়মে জমা দিতে হয়। কোনও ব্যক্তি বা ব্যক্তিগত নম্বরে টাকা পাঠাতে হয় না।

সকল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি একসাথে দেখতে ভিজিট করুনঃ www.newsbdjob.com