বিসিএস প্রিলিমিনারি: শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি ও করণীয়

আগামী ২৭ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা। শেষ মুহূর্তে এসে প্রতিযোগিতামূলক এ চাকরির পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পরিকল্পনামাফিক প্রস্তুতির বিকল্প নেই। বিসিএসে কোনো বিষয়ে দুর্বলতা রাখা যাবে না। প্রিলিমিনারিতে নম্বর বণ্টন কম-বেশি হতে পারে, তবে সব বিষয়ই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চাকরিপ্রার্থীদের সুবিধার্থে ৪৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির শেষ সময়ের বিষয়ভিত্তিক পরামর্শ ও করণীয় নিয়ে লিখেছেন ৩৮তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অর্থনীতি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. কামরুল ইসলাম। অনুলিখন শাবিপ্রবি প্রতিনিধি মোয়াজ্জেম আফরান—

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
বাংলা ব্যাকরণ ও সাহিত্য মিলে ৩৫ নম্বর থাকে। ব্যাকরণের জন্য নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বোর্ড বইটি সহায়ক হবে। আপনার রেফারেন্স বইগুলো ভালোভাবে আরেকবার চোখ বুলিয়ে নিতে পারেন। সাহিত্যের ক্ষেত্রে পিএসসির নির্ধারিত ১১ জন সাহিত্যিক, মুক্তিযুদ্ধ ভিক্তিক সাহিত্যকর্ম, লেখকদের সম্পাদিত পত্রিকা, বাংলা সাহিত্যের পঞ্চপাণ্ডব ও আধুনিক সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের সাহিত্যকর্ম নিয়ে আলাদাভাবে প্রস্তুতি থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, বাংলা সাহিত্য একটি বিশাল সিলেবাস। সব আয়ত্ত করা যায় না, চেষ্টা করাও উচিত হবে না।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য
ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য মিলে ৩৫ নম্বর থাকে। ইংরেজিতে ভালো করার কোনো বিকল্প নেই। ইংরেজির কিছু টপিক বিসিএসে প্রতিবারই আসে। যেমন- Number, Gender, Parts of Speech, Subject-verb Agreement, Correction, Vocabulary, Phrase & Idioms and Preposition. এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো গ্রামার রুল শেখার সময় রুলের অন্তর্গত নানা চাকরির পরীক্ষায় আসা প্রশ্ন অনুশীলন করা। এতে সহজে বোঝা যাবে। সাহিত্যের ক্ষেত্রে Romantic Period, Elizabeth Period, Shakespeare, John Milton, The Modern Age সহ বিগত বিসিএস পরীক্ষায় আসা সাহিত্যিকদের জীবনী ও তাঁদের সৃষ্টিকর্ম পড়া যেতে পারে।

বাংলাদেশ বিষয়াবলি
বাংলাদেশ বিষয়াবলির সিলেবাস বেশ বড়। সিলেবাস দেখেই অনেকে হতাশ হয়ে যান। আরও হতাশ হয়ে পড়েন সাধারণ জ্ঞানে তুখোড় কাউকে দেখলে। এ বিষয়ে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশ বিষয়াবলির প্রস্তুতির জন্য মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, সংবিধান, প্রাচীন যুগ, শিল্প, অর্থনৈতিক সমীক্ষা-২০২১, বাজেট, বিগত ৪-৫ মাসের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স, পত্রিকা, টিভি নিউজ ও বিভিন্ন সম্পাদকীয় সংকলন ইত্যাদি পড়া যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি
বৈশ্বিক ইতিহাস, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংগঠনের ইতিহাস ও সদর দপ্তর, বিভিন্ন সংকট, বাণিজ্য চুক্তি, অন্যান্য চুক্তি, যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি, খেলাধুলা ও সাম্প্রতিক বিষয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। এই অংশে জানাশোনা কম থাকে বলে প্রার্থীদের মধ্যে ভীতি দেখা যায়। প্রশ্ন কঠিন হলে সেটা সবার জন্য কঠিন। তবে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ প্রশ্ন সব সময়ই কমন থাকে।

সাধারণ বিজ্ঞান
এই অংশের সিলেবাসের আয়তন ও বরাদ্দ করা নম্বর ব্যস্তানুপাতিক। নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ বিজ্ঞান বই, বিগত বিসিএসে আসা প্রশ্নগুলো পড়লেই ৮০ ভাগ প্রস্তুতি হয়ে যায়। তবে বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অজানা প্রশ্ন এলে সেটার উত্তর না করাই বুদ্ধিমানের কাজ। নম্বর কম বলে অনেকে বিজ্ঞানে কম প্রস্তুতি নেন বা এড়িয়ে যেতে চান। সে ক্ষেত্রে লিখিত প্রস্তুতির সময় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হবে বিজ্ঞানের জন্য।

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা
নবম-দশম শ্রেণির ভূগোল বই থেকে বিসিএস সিলেবাস সংশ্লিষ্ট অংশ পড়ে রাখুন। তবে গাইড বইয়ের চেয়ে আগের বছরে আসা প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ। মানচিত্র সঙ্গে নিয়ে পড়লে সহজে রপ্ত করা যায়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, জলবায়ু সম্মেলন ও চুক্তি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

গাণিতিক যুক্তি
এই অংশে প্রস্তুতি দুই রকম। ৯-১০ নম্বর পেতে চাইলে অষ্টম ও নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত বই থেকে বিসিএস সিলেবাস সংশ্লিষ্ট অংশ পড়ে রাখুন। আরও ভালো করতে চাইলে নবম-দশম শ্রেণির উচ্চতর গণিত বই থেকে বিসিএস সিলেবাস সংশ্লিষ্ট অংশ পড়া যেতে পারে। তবে গণিতে ভালো করতে হলে প্রতিদিন অনুশীলনের বিকল্প নেই।

মানসিক দক্ষতা
পূর্বের বিসিএসে আসা প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্নের সমাধান করতে হবে। মানসিক দক্ষতায় বিভিন্ন সূত্র প্রয়োগ করে সমাধান করলে ভুল হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। যে কোনো একটি গাইড বই সহায়ক হিসেবে পড়া যেতে পারে।

কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের সাথে বাজারের যে কোনো একটি গাইড বই পড়তে পারেন। এ ছাড়া বিসিএসসহ বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন রিভিশন করে রাখতে পারেন। এই অংশে ৩-৪টি প্রশ্ন কঠিন আসে, যা পরীক্ষায় ছেড়ে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।

নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুশাসন
সবচেয়ে বেশি কনফিউজিং প্রশ্ন থাকে এ অংশে। একই প্রশ্নের উত্তর ভিন্ন দেখা যায়। যদিও বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর কমনসেন্স থেকে করা যায়। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পৌরনীতি ও সুশাসন বই, জাতিসংঘসহ অন্যান্য বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানের সুশাসন–সম্পর্কিত পদক্ষেপ পড়া যেতে পারে। এই অংশে আনকমন প্রশ্ন আন্দাজে দাগাবেন না।

সর্বোপরি, বিসিএস প্রিলিমিনারি পাসের জন্য বিষয়ভিক্তিক প্রস্তুতি ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় তুলে ধরা হলো—

প্রিলিমিনারি পাসের কৌশল
১. বিষয়ভিক্তিক রেফারেন্স বইগুলো একাধিকবার রিভিশন করুন।
২. কোনো একটি বিষয়ে বেশি পারদর্শী হয়ে অন্য বিষয়ে দুর্বল হওয়ার চেয়ে সব বিষয়ে অলরাউন্ডার হওয়ার চেষ্টা করুন।
৩. নিয়মিত বিষয়ভিক্তিক মডেল টেস্ট ও পরীক্ষার আগে একাধিক চূড়ান্ত মডেল টেস্ট দিয়ে নিজের ভুলগুলো খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো সংশোধন করার চেষ্টা করুন।
৪. নেগেটিভ মার্কিংয়ের ব্যাপারে যতটা সম্ভব সতর্ক থাকুন এবং
৫. পরীক্ষার হলে সময় বণ্টন করুন আর প্রশ্নের সাথে সমন্বয় করে নিন।

প্রিলিমিনারিতে অকৃতকার্য হওয়ার কারণ
১. বেশিসংখ্যক নেগেটিভ মার্কিং।
২. পরীক্ষার হলে সময়ের অব্যবস্থাপনা।
৩. গুরুত্বপূর্ণ টপিক বাদ দিয়ে কম বা অগুরুত্বপূর্ণ টপিকের ওপর প্রস্তুতি।
৪. পরীক্ষার আগে পুরোপুরিভাবে রিভিশন দিতে না পারা।
৫. ভাসাভাসা প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষার হলে যাওয়া।
৬. একাধিক বই পড়তে গিয়ে কোনোটিই সম্পূর্ণ না করা এবং
৭. পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব।