হলে গাঁজা সেবনে নিষেধ করায় জুনিয়রকে মারধর!

হলের কক্ষে গাঁজা সেবনে নিষেধ করায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) এক সিনিয়র জুনিয়রকে মারধর করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হলের ৩০৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় অভিযুক্ত জিয়াউর রহমান জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং সাদ্দাম হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। মারধরের শিকার ভুক্তভোগী আসিস ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ফোকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ রাসেল হলের ৩০৮ নম্বর কক্ষে থাকেন। তার রুমমেট ইইই বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সজলের রেফারেন্সে কয়েকজন বন্ধু নিয়ে রুমে আসেন জিয়াউর রহমান জিয়া। রুমে এসে জিয়া ও তার বন্ধুরা তাস খেলতে বসেন। কিছুক্ষণ পর রুমে কাউকে আসতে বলছেন কিনা ফোনে, আসিস তার রুমমেটকে জিজ্ঞাসা করেন। তার রুমমেট জানান তিনি কাউকে আসতে বলেননি তবে তারা বিভাগের পরিচিত ছোট ভাই।

তিনি আরও বলেন, তাস খেলার এক পর্যায়ে জিয়া সাদ্দাম হোসেন হলের ডাইনিং বয় রাসেলকে গাঁজা নিয়ে আসতে বলেন। গাঁজা আসার পর সকলে মিলে খাওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। এ সময় আসিস পুনরায় তার রুমমেটকে ফোন দিয়ে অবগত করলে জিয়ার কাছে ফোন দিতে বলেন। সজল জিয়াকে রুমের ভেতরে গাঁজা খেতে নিষেধ করেন। গাঁজার কথা আসিস তার রুমমেটকে জানানোর কারণে জিয়া আসিসকে মারধর করে রুম থেকে বেরিয়ে যান।

প্রত্যক্ষদর্শী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সাকলাইন মুস্তাক সিয়াম বলেন, আমি তাদেরকে গাঁজা খাওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখেছি। আসিস রুমে গাঁজা খেতে নিষেধ করায় তাকে মারধর করে চলে যায়।

অভিযুক্ত জিয়া বলেন, একটু ভুল-বোঝাবুঝির ফলে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে। আর ওরা আমাকে মাদকের কথা বলে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। শুধু মাদকের কথা বলে ফাঁসিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি। আজ মঙ্গলবার সকালে আসিস তার বন্ধু নাইমসহ ৬-৭ জন মিলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি কিছুক্ষণ আগে অবগত হয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।